এক্ষুনি চাই শান্তি, এক্ষুনি চাই জলবায়ু ন্যায়!
পৃথিবীতে চিরকালীন ও সার্বত্রিক শান্তি সুনিশ্চিত করবার জন্য একটি গণআন্দোলন গড়ে তুলতে
আমাদের সঙ্গে আজই যুক্ত হোন। সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি, শান্তি-আলোচনা, এবং জলবায়ু সংকটের
বাস্তবসম্মত সমাধান সাধন এবং তারই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম বণ্টনের দাবিতে স্থানীয়, জাতীয়
এবং আন্তর্জাতিক স্তরে আজই আমাদের এক হতে হবে।
বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলা সামরিকীকরণ প্রক্রিয়া সমকালীন জলবায়ু সংকটসহ আরো বহু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার
সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল সম্পদকে নির্দ্বিধায় গ্রাস করে চলেছে। যাবতীয় প্রাকৃতিক সম্পদকে
“অসীম” ঠাউরে নিয়ে ক্রমাগত তার ধ্বংসসাধন এবং চিন্তাহীন শোষণ আমাদের এই একমাত্র বাসযোগ্য
পৃথিবীটাকে দীর্ঘস্থায়ী বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। “জীবন” নিজেই আজ তাই সমূলে বিপন্ন।
আমাদের বর্জ্য-বাড়ানো বর্তমান সমাজব্যবস্থার পাল্লায় পড়ে আমরা কি ভেবে বসেছি যে আমাদের জন্য
হয়তো অন্তহীন পৃথিবী মজুদ রয়েছে কোথাও? শক্তি-দক্ষ যথার্থ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এবং
শক্তি-সচেতন জীবনযাপনের দ্বারা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে জীবাশ্ম জ্বালানির অত্যধিক ব্যবহারের
মাত্রাকে ক্রমশ কমিয়ে ফেলতে হবে। আমরা চাই একটা সম্পদ-সাশ্রয়ী, মিতব্যয়ী সমাজ। এই
উদ্দেশ্যসাধনে সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির ব্যবস্থাগত কাঠামোর আমূল পরিবর্তনসাধন নিঃসন্দেহে জরুরি।
একমাত্র তখনই আমরা কৃষিকাজ, বনরক্ষা, শিল্প-কারখানা ও পরিষেবা খাতে যুক্ত মানুষজনের জন্য
জলবায়ু ন্যায়ের উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ নিতে পারবো।
যুদ্ধ মানে কি? খুনোখুনি, মার-দাঙ্গা-হাঙ্গামা, নিদারুণ আঘাত হানা, ক্রমাগত যাপনকে আতঙ্কিত করে
দুর্বিষহ করে তোলা। যুদ্ধের কারণেই মানুষকে ভিটেছাড়া হতে বাধ্য করা হয়। তাদের ঘরবাড়ি ধূলিস্যাত হয়,
জনকাঠামো ধ্বসে পড়ে। বোমার প্রকোপে, মাইনের আক্রোশে, এবং সামগ্রিক অস্ত্রসস্ত্রের
কুচকাওয়াজে ক্রমশ বাড়তেই থাকে মারাত্মক দূষণ। এর ফলে অতিঅবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবেশ। যুদ্ধ
হাঁক দেয় সামরিক পুনরস্ত্রসজ্জার। যুদ্ধ “শত্রু”র নির্মাণ বানিয়ে তুলে মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে খেপিয়ে
তুলে, একে-অন্যের মধ্যে দুর্ভেদ্য ঘৃণা ও অবিশ্বাসের দেওয়াল খাড়া করে দেয়। এইসমস্ত কারণেই
আমাদের এক প্রকৃত শান্তি-ভিত্তিক বিশ্বপল্লীর পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করে
ফেলতে হবে।
আমরা সমস্ত জনসাধারণ এবং সংগঠনগুলোকে আহ্বান জানাই – আসুন আমরা একসঙ্গে মিলে শান্তিপূর্ণ
এবং ন্যায়সঙ্গত এক বিশ্বপৃথিবীর জন্য সুদূরপ্রসারী গণআন্দোলন গড়ে তুলি। একসঙ্গে মিলেমিশে বাস
করবার জন্য এবং জলবায়ু ও পরিবেশ সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যে সুসংহত উপায়ে কাজ করাটা আজ
একান্তভাবে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এই পৃথিবী গ্রহের প্রত্যেকটা মানুষ এবং না-মানুষের জন্য
মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলোর কথা মাথায় রেখে খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষা
করা এবং সম্পদের সুচিন্তিত এবং পরিমিত ব্যবহারের কথা পাড়ায়-পাড়ায় প্রচার করবার কাজ চালিয়ে
যেতে হবে। সামরিকীকরণের জন্য যে কোটি কোটি টাকা স্রেফ হত্যালীলায় এবং ধ্বংসসাধনে নষ্ট করা হয়,
সেই টাকা বরং জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সেবার কাজে লাগানো হোক – সেটাই হবে এই
লড়াইয়ে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ।
সমর্থনে:
স্টকহোম পিস অ্যাসোসিয়েশন / শান্তি ও ন্যায়সঙ্গত জলবায়ু পরিবর্তন কর্মী দল
ফোক ও ফ্রেড, সুইডেন
শান্তির জন্য শিল্পীরা
ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার – লুন্ড, মালমো, কেনিয়া, ক্যামেরুন
আফ্রিকান হিউম্যানিটারিয়ান পিস অ্যান্ড ক্লাইমেট মুভমেন্ট; ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার ক্যামেরুন
শান্তি ও জলবায়ু ন্যায়বিচার — ভারত, বাংলাদেশসহ আরও বহু দেশ
ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার কলকাতা
ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার ইন্ডিয়া
Download the Bangla paper petition here, https://actionnetwork.org/user_files/user_files/000/134/284/original/bangla-improvedf-options_-write-in-i_-to-receive-climate-information-or-v_-to-help.pdf and then print. You may have to test and update your settings to align the printing sheets.